ব্রি ধান ২৯

ব্রি ধান ২৮-এর মতো ব্রি ধান ২৯ (BRRI dhan29) বাংলাদেশের কৃষিতে সমান জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী একটি জাত। তবে এই দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সময় এবং ফলন। ব্রি ধান ২৯ মূলত দেরি করে পাকে কিন্তু অনেক বেশি ফলন দেয়। নিচে ব্রি ধান ২৯ সম্পর্কে বিস্তারিত নিবন্ধটি দেওয়া হলো:

Jan 27, 2026 - 12:02
 0  11
ব্রি ধান ২৯

১. উদ্ভাবন ও পরিচিতি

ব্রি ধান ২৯ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) কর্তৃক ১৯৯৪ সালে অনুমোদিত হয়। এটি বোরো মৌসুমের একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত উচ্চফলনশীল জাত। অধিক ফলনের জন্য একে অনেক সময় "মেগা ভ্যারাইটি" বলা হয়ে থাকে।

২. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই জাতটি তার উচ্চ ফলনশীল ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত:

 * গাছের উচ্চতা: গাছ সাধারণত ৯৫-১০০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এর কাণ্ড বেশ শক্ত, তাই সহজে হেলে পড়ে না।

 * জীবনকাল: বীজ বপন থেকে কাটা পর্যন্ত ১৫৫-১৬০ দিন সময় লাগে। (এটি ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে প্রায় ১০-১৫ দিন বেশি সময় নেয়)।

 * চাল: চাল মাঝারি চিকন এবং সাদা। ভাত বেশ ঝরঝরে ও সুস্বাদু।

 * ফলন: সঠিক যত্ন নিলে হেক্টর প্রতি ৭.৫ থেকে ৮.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। আদর্শ অবস্থায় এটি হেক্টর প্রতি ৯ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

৩. চাষাবাদ ও ব্যবস্থাপনা

ব্রি ধান ২৯ থেকে সর্বোচ্চ ফলন পেতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

 * বীজ বপন: সাধারণত ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করতে হয়।

 * চারা রোপণ: ৪৫-৫০ দিন বয়সের চারা রোপণ করা উত্তম। যেহেতু এটি দীর্ঘমেয়াদী জাত, তাই চারা একটু বয়স্ক হলেও ফলনে খুব একটা প্রভাব পড়ে না।

 * সার প্রয়োগ: উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় এই ধানে সারের প্রয়োজনীয়তা বেশি। বিশেষ করে ইউরিয়া সার তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া ডিএপি, এমওপি, জিপসাম এবং দস্তা সারের সুষম ব্যবহার অপরিহার্য।

 * পানি ব্যবস্থাপনা: এই জাতটি দীর্ঘ সময় মাঠে থাকে, তাই বোরো মৌসুমের শেষ দিকে পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করতে হয়।

৪. সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধা:

১. বাম্পার ফলন: এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ফলনশীল ইনব্রিড (Inbred) জাতগুলোর একটি।

২. বাজারমূল্য: চাল মাঝারি চিকন হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম বেশ ভালো।

৩. খড় উৎপাদন: গাছের উচ্চতা ভালো হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে খড় পাওয়া যায় যা জ্বালানি ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সীমাবদ্ধতা:

১. দীর্ঘ জীবনকাল: মাঠে বেশি দিন থাকে বলে সেচ খরচ কিছুটা বেশি হয় এবং অনেক সময় কালবৈশাখীর কবলে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

২. রোগবালাই: পুরনো জাত হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেক ব্লাস্ট এবং ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (BLB) রোগের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দিচ্ছে।

৫. ব্রি ধান ২৯ বনাম ব্রি ধান ৮৯ ও ৯২

বর্তমানে ব্রি ধান ২৯-এর বিকল্প হিসেবে এবং আরও বেশি ফলন পেতে বিজ্ঞানীরা নতুন কিছু জাত চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন:

 * ব্রি ধান ৮৯: এটি ২৯-এর চেয়েও ১৫-২০% বেশি ফলন দেয় এবং কয়েকদিন আগেই পাকে।

 * ব্রি ধান ৯২: এটি ২৯-এর মতো দীর্ঘমেয়াদী কিন্তু পানির সাশ্রয় করে এবং ফলনও বেশি।

(ব্রি ধান ২৯ ক্রয় করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন pavelseedstore on WhatsApp. https://wa.me/8801717458827)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow