রেড লেডি - মল্লিকা সীড কোম্পানি
1. বিট রুট (Beetroot) বা বিট বর্তমানে তার অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টির জন্য একটি 'সুপারফুড' হিসেবে পরিচিত। লাল টকটকে এই সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল থাকে। নিচে বিট রুটের প্রধান পুষ্টিগুণ ও উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো:
১. মূল পুষ্টি উপাদান (প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায়)
* ক্যালরি: ৪৩ কিলোক্যালরি
* পানি: ৮৮%
* প্রোটিন: ১.৬ গ্রাম
* কার্বোহাইড্রেট: ৯.৬ গ্রাম
* ফাইবার: ২.৮ গ্রাম
* ফ্যাট: ০.২ গ্রাম
২. ভিটামিন ও মিনারেল
বিট রুট প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর:
* ফোলেট (ভিটামিন B9): কোষের বৃদ্ধি এবং ডিএনএ তৈরির জন্য অপরিহার্য। এটি গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* ম্যাঙ্গানিজ: হাড়ের গঠন এবং মেটাবলিজমে সাহায্য করে।
* পটাশিয়াম: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর।
* আয়রন: রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
* ভিটামিন C: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
৩. স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারিতা
* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: বিট রুটে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট থাকে, যা শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
* শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি: অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের জন্য এটি দারুণ কার্যকর। এটি পেশির অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষমতা বাড়িয়ে স্ট্যামিনা বাড়াতে সাহায্য করে।
* হজম শক্তি উন্নত করে: এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
* লিভার সুরক্ষা: বিট রুটে থাকা 'বেটালাইন' নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভার থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।
* মস্তিষ্কের কার্যকারিতা: রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে এটি বয়স্কদের স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।
> সতর্কতা: বিট রুট খাওয়ার পর প্রস্রাব বা মল লালচে রঙের হতে পারে, যা স্বাভাবিক (একে বিটুরিয়া বলা হয়)। তবে যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে, তারা বিট রুট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন কারণ এতে প্রচুর 'অক্সালেট' থাকে।
What's Your Reaction?