ব্রি ধান ২৮
বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসে ব্রি ধান ২৮ (BRRI dhan28) একটি কিংবদন্তি নাম। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে অধিক ফলন এবং চালের চমৎকার গুণমানের জন্য এটি গত তিন দশক ধরে কৃষকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে একটি। নিচে ব্রি ধান ২৮ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. উদ্ভাবন ও পরিচিতি
ব্রি ধান ২৮ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত। এটি ১৯৯৪ সালে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। এটি মূলত বোরো মৌসুমের (শীতকালীন) ধান। স্বল্প জীবনকাল এবং চিকন চালের জন্য এটি দেশব্যাপী দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
২. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
এই ধানের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য একে অন্য জাত থেকে আলাদা করেছে:
* গাছের উচ্চতা: ধান গাছ সাধারণত ৯০-৯৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়।
* জীবনকাল: বীজ বপন থেকে কাটা পর্যন্ত ১৪০-১৪৫ দিন সময় লাগে। এটি একটি আগাম জাত, যা দুর্যোগ এড়াতে সাহায্য করে।
* চাল: চাল মাঝারি চিকন এবং সাদা। ভাতের মান উন্নত এবং ঝরঝরে।
* ফলন: হেক্টর প্রতি ৫.০ থেকে ৬.০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব (সঠিক পরিচর্যা সাপেক্ষে)।
* খড়: এর খড় গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে বেশ উপযোগী।
৩. চাষাবাদ পদ্ধতি
সফল ফলনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
* বীজ বপন: সাধারণত ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করতে হয়।
* চারা রোপণ: ৩৫-৪০ দিন বয়সের চারা মূল জমিতে রোপণ করা সবচেয়ে ভালো।
* সার ব্যবস্থাপনা: মাটির গুণাগুণ বিচার করে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও দস্তা সার পরিমিত পরিমাণে প্রয়োগ করতে হয়।
* সেচ: বোরো ধান পুরোপুরি সেচ নির্ভর, তাই জমিতে প্রয়োজনীয় পানি ধরে রাখতে হবে। তবে ধান পাকার ১০-১৫ দিন আগে পানি বের করে দেওয়া ভালো।
৪. সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
সুবিধা:
১. আগাম জাত: জীবনকাল কম হওয়ায় হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার আগে ধান কাটা যায়।
২. চাহিদা: বাজারে এই ধানের চালের দাম অন্য সাধারণ ধানের চেয়ে বেশি থাকে।
৩. অন্য ফসল চাষ: দ্রুত ধান পাকার কারণে পরবর্তী রবি শস্য আবাদে সুবিধা হয়।
সীমাবদ্ধতা ও বর্তমান অবস্থা:
যদিও এটি একটি অসাধারণ জাত, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চাষাবাদের ফলে বর্তমানে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে:
* রোগবালাই: বর্তমানে এই জাতে নেক ব্লাস্ট (Neck Blast) এবং শিথ ব্লাইট রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
* ফলন হ্রাস: পুরনো জাত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।
৫. বর্তমান পরামর্শ: বিকল্প জাত
ব্রি ধান ২৮ এর রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় কৃষি বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এর বিকল্প হিসেবে আরও উন্নত কিছু জাত চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। যেমন:
* ব্রি ধান ৮১: এটি ব্রি ধান ২৮ এর উন্নত সংস্করণ।
* ব্রি ধান ৮৮: ফলন ২৮-এর চেয়ে বেশি এবং জীবনকালও কম।
* ব্রি ধান ৯২: খরা ও রোগ সহনশীল এবং অধিক ফলনশীল।
উপসংহার
ব্রি ধান ২৮ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এক বিশাল ভূমিকা রেখেছে। যদিও বর্তমানে নতুন কিছু জাত একে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তবুও এর চালের গুণমান ও দ্রুত ফলনের কারণে এটি এখনো কৃষকদের কাছে এক আস্থার প্রতীক। তবে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে এবং লোকসান এড়াতে আধুনিক ব্রি জাতগুলো ব্যবহারের দিকেও কৃষকদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
(ব্রি ধান ২৮ ক্রয় করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন pavelseedstore on WhatsAp
p. https://wa.me/8801717458827)
What's Your Reaction?